মারুফ ইসলাম, জন্ম বগুড়ার নশরৎপুরে। সেথায় ‘নশরৎপুর স্টেশন’ নামে একটি রেলস্টেশন রয়েছে যার বিস্তীর্ণ রেলপথ ধরে হেঁটে হেঁটে কেটেছে ক্রমশ পাঠকপ্রিয় হতে চলা এই লেখকের শৈশব-কৈশোর। জন্মাবধি নানা রোগ-শোকে ভোগা এই লেখক কৈশোরের প্রারম্ভেই ‘রিউমেটিক ফিভার’ নামে এক বিরল-ব্যতিক্রম রোগে আক্রান্ত হন। ফলে বছরের নয় মাস তার শরীরে জ্বর থাকত, হাতে-পায়ে ব্যথা করত অসহনীয়। কলেজের চৌকাঠে পা রাখা অবধি তিনি এই কালান্তর ব্যাধিতে ভুগেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের প্রথম বর্ষ ভালো কাটলেও দ্বিতীয় বর্ষেই তিনি আবার আক্রান্ত হোন আরেক দূরারোগ্য ব্যাধি ব্রংকাইটিসে। জরাগ্রস্থ এই লেখক তাই আকৃতিতে খর্বাকায়। তার মাথা কেশবিরল। তিনি ক্ষীণদৃষ্টি সমস্যায় ভোগেন। তাই চোখে সেঁটে রাখেন চশমা। অত্যন্ত কুদর্শন এই লেখক পড়া ও লেখা ছাড়া আর কিছু করতে পারেন না। এ পর্যন্ত তিনি লিখেছেন তিনটিমাত্র বই- সুইসাইড নোট, সফলদের জয়গান ও জীবন এখানে এমন।

মারুফ ইসলাম এর লেখা:

সোমেন, এই দুর্দিনে আপনাকে বড্ড বেশি দরকার

নিদানের কালে পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক তালাশ করতে হয়, তাতে কখনো কখনো সঠিক পথের দিশা পাওয়া যায়। প্রিয় সোমেন চন্দ, নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, আপনি যে পদচ্ছাপ রেখে...

দিনের পর দিন | কিস্তি- ৮

৮.বাড়ি ফিরতে ফিরতে বিকেল হয়ে যায় জমেলার। তার ফেরার পথ ক্রমশ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর মনে হয়। পা চলে না। গুলি খাওয়া বাঘের মতো টলমল করে।...

দিনের পর দিন | কিস্তি- ৭

প্যাক প্যাক... প্যাক প্যাক! ককরক কক... ককরক কক! হাস-মুরগির তারস্বরের চিৎকার আছড়ে পড়ে জলির কানে। ঘুমটা ভেঙে যায়। চোখ খুলে দেখে জানালার শিক গলে সূর্য...

দিনের পর দিন ॥ কিস্তি ৬

আব্দুল তার বউকে চোখ ইশারা দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বউ তার কাছে এলে সে কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলে, ‘শার্টের পকেটত তিনশো ট্যাকা...

সুখের অসুখ

অফিস ফিরতি চাকরিজীবীর দৃশ্য নাকি ফুটপাতজীবী ভিক্ষুকের দৃশ্য দিয়ে গল্পটা শুরু করব, এই সিদ্ধান্ত নিতে নিতে মধ্যরাত পেরিয়ে ভোর হল, বৃক্ষশাখের পাতায় পাতায় শেষরাতের হিম...

যা মনে রাখি গল্প লিখতে গিয়ে

প্রতিকথা’র এবারের আয়োজন এই সময়ের ১০ জন কথাসাহিত্যিকের গল্পভাবনা। কেন তাঁরা গল্প লেখেন, গল্প লিখে আসলে কী হয়, গল্প কেমন হওয়া উচিত, বাংলা গল্প কতদূর...

দিনের পর দিন ॥ কিস্তি ৫

কৈতরপাড়া বেশি দূরের পথ নয়। সোয়া চার মাইল। হেঁটে গেলে আর কতক্ষণই বা লাগবে! জমেলা ভাবে, এই পথ তো একসময় হেঁটেই পাড়ি দিয়েছে সবাই। এখন...

দিনের পর দিন ॥ কিস্তি ৪

চাতালের কাজ থেকে ছুটি মেলে সন্ধ্যায়। গোধূলীর মুমূর্ষু আলো গায়ে মাখতে মাখতে ঘরে ফেলে জমেলা। রোজকার মতো হাঁস-মুরগিগুলো উঠোনে মাহফিল বসিয়েছে। মেয়ে জলি বারান্দায় বসে...

দিনের পর দিন ॥ কিস্তি ৩

কান্নায় মনের দুঃখ লাঘব হয় হয়তো, কিন্তু তাতে দুর্দিন অপসারিত হয় না। জমেলা পরিত্রাণ খোঁজে। ভাবে, মেয়েটাকেও তার সঙ্গে তালুকদারের চাতালে নিয়ে যাবে। দু’জন মিলে...

ভিন্ন দিনের জীবনায়ন : অস্বস্তিকর গল্পের আলেখ্য

রাত-দুপুরে মোবাইল ফোন কেঁপে উঠল— গোঁ… গোঁওও! বিরক্ত হলাম। এত রাতে মানুষ কেন ফোন দেয়! মানুষের কি আক্কেল বলতে কিছু নেই? যিনি ফোন করেছেন তিনি...