আব্দুর রউফ চৌধুরী, জন্ম- ১ মার্চ ১৯২৯। মুকিমপুর, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ। ১৯৪৭। আউশকান্দি উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু। ১৯৪৯। আউশকান্দি হাইস্কুলে শিক্ষকতার সময় পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে যোগদান। তারপর সপরিবারে পাকিস্তানে বসবাস শুরু। ১৯৬১। বিমানবাহিনীর চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ এবং সপরিবারে পূর্ব-বাংলায় প্রত্যাবর্তন। ১৯৬২। ব্রিটিশ সরকারের মিনিস্ট্রি-অফ-অ্যাভিয়েশনের গবেষণাকেন্দ্রে চাকুরি গ্রহণ। ১৯৬৬-১৯৭১। ক্রমাগত পেশা বদল- ম্যানেজার, ইলেকট্রিকমিস্ত্রি, ফিটার ইত্যাদি। ১৯৭১। মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় সংগঠক। ১৯৭২। সিভিল সার্ভিসে যোগদান। ১৯৮৯। অবসর গ্রহণ এবং স্ত্রী সমেত বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন। সংগ্রাম-উন্মুখর বিচিত্র জীবনধারা থেকে সংগৃহিত হয় তাঁর অভিজ্ঞতা। দারিদ্র্যের প্রচণ্ড চাপ আর সামাজিক বিষমতা ও পীড়নে লেখালেখিতে প্ররোচিত। ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬। সকাল। ১১.৪০। তাঁর প্রিয় সংগঠন হবিগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত হবিগঞ্জ মুক্ত স্কাউট ভবনে মহান একুশ স্মরণে আয়োজিত আলোচনা মঞ্চে বক্তৃতারত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু জীবনের শাশ্বত সত্য জেনে তাকে গ্রহণ করেন। প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত অসংখ্য উপন্যাস, ছোটোগল্প, প্রবন্ধ, গবেষণা সমেত রউফসৃষ্টিনিদর্শন বাংলাসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী আগামী দিনেও বেঁচে থাকবেন তাঁর সৃজনকর্মের গৌরবে।

আব্দুর রউফ চৌধুরী এর লেখা:

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ২০

দিলদার, সবুজ, আজরাফ ও আমি ছাড়া বাকিরা বেরিয়ে পড়লেন। একটি আত্মতুষ্টির আবেশে মাতোয়ারা হয়ে দিলদার তার সুন্দর সিগারেট কেস থেকে একটি সিগারেট বের করে ধরাল।...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৯

চতুর্থ অধ্যায় ৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬২। রোববার। সকাল। ঘুম ভেঙেছে কিছুক্ষণ হলো, কিন্তু বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে না। তিন সপ্তাহ হয়েছে লন্ডন এসেছি, ঘুর ঘুর...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৮

বিছানাটা খাবারঘরে থাকায় আজ সুবিধে উপলব্ধি করছি, পাশের রান্নাঘরের উৎতাপে এই ঘরটি কিছুটা হলেও গরম থাকে। বাকি শীতটুকু অবশ্য একটা অ্যারফিন হিটারকে দিয়ে মিটিয়ে নেওয়া...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৭

তারপর তিনি অবুঝ স্বামীর মতো মাথা দুলিয়ে কিন্তু শক্ত গলায় বললেন যে, আমি যেন এক্ষুণি তার বাসায় চলে যাই। তার স্ত্রী আমার জন্য অপেক্ষা করছেন।...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৬

সকালে উঠেই লন্ডন শহরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ফোর্ড কোম্পানির বিরাট কার ফ্যাক্টরিতে পৌঁছে যাই, কাজের সন্ধানে। ডাগেনহ্যাম পাতালস্টেশন থেকে বেশ দূরে। হেঁটে আসতে যে-সময় লেগেছে তাতে...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৫

রাত্রে বিছানায় শুয়ে শুয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে অন্যমনস্কভাবে ভাবছি মামুজির কথা। দিয়াশলাই জ্বালানোর শব্দে ঘাড় ফেরাতেই চোখ নিবদ্ধ হলো মামুজির ওপর। একটা আরাম কেদারায় পা...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৪

শীতকালে ডাবল নট দিলে টনসিল রক্ষা পায়, শীতের প্রকোপ থেকে। কি বলো? জিজ্ঞেস করি, তোমাকে কেউ কেউ জন বলে ডাকে কেন? উত্তরে মুচকি হেসে বলল,...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১৩

তৃতীয় অধ্যায় মামুজির ডাকে ঘুম ভাঙল। আমার আশ্রয়স্থল ৪৩ নম্বর সেন্টল স্ট্রিটের খাবার কামরায় সকলের অবাধগতি। প্রাইভেসি বলতে কিছুই নেই। পরের বাড়ি, অনেক ঝামেলা। চোখ...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১২

কার্তিক প্রতিম বলিষ্ঠ তরুণটি একপ্লেট ভাত নিয়ে ফিরে এলো। সহসা তার দিকে চোখ তুলে তাকাতেই দেখতে পাই, তার পরনে নিতান্তই সাদাসিধে পোশাক। আনন্দের একটি সুগভীর-প্রসন্ন-শান্ত-দীপ্ত-রেখা...

পরদেশে পরবাসী ॥ পর্ব ১১

জাহাজ ছাড়ার দুদিন আগে আমরা এসে উপস্থিত হই চট্টগ্রামে। আশ্রয়স্থল শিরীণের মেসোর বাড়ি। এখানে আরেক বিপর্যয়। মাসিশাশুড়িকে প্রণাম করতে উদ্যোগ নিতেই শিরীণ বাধা দিয়ে বলল,...